বর্ষার আবহাওয়ার মধ্যে নিঃসন্দেহে এক ধরনের স্বস্তি আছে। বৃষ্টি, চা, আর গরম গরম ভাজা কিছু খাওয়ার ইচ্ছা- এ যেন প্রায় সবারই পরিচিত চিত্র। কিন্তু বর্ষাকাল কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও নিয়ে আসে। এসময় খাদ্যজনিত অসুস্থতার ঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়। বর্ষার স্যাঁতস্যাঁতে পরিবেশ যেন ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস এবং ছত্রাকের জন্য এক উৎসবের আমন্ত্রণ। তাহলে, বর্ষাকালে খাবারের প্লেটে কী কী এড়িয়ে চলা উচিত? চলুন জেনে নেওয়া যাক-
বর্ষাকালে খাবার কেন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে?
বর্ষাকালে খাদ্য দূষণের ঝুঁকি বেড়ে যায়, কারণ উষ্ণ ও আর্দ্র আবহাওয়ায় ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস এবং ছত্রাক আরও সহজে বংশবৃদ্ধি করতে পারে। বিষয়টি খাবার নিয়ে নয়; এটি পারিপার্শ্বিক পরিবেশ নিয়ে। খাবার আর্দ্রতা এবং উষ্ণ তাপমাত্রার সংস্পর্শে এলে তা স্বাভাবিকের চেয়ে দ্রুত নষ্ট হয়ে যেতে পারে এবং জীবাণুর বংশবৃদ্ধি ঘটতে পারে, যা একদিন আগেও নিরাপদ বলে মনে হওয়া খাবারকে সম্ভাব্য অনিরাপদ করে তোলে। টাটকা এবং স্বাস্থ্যসম্মতভাবে প্রস্তুত খাবার খেলে পেটের সংক্রমণ এবং খাদ্য বিষক্রিয়া কমানো যেতে পারে। যদিও এটি একটি সাধারণ কথা বলে মনে হতে পারে, এই মৌসুমে সুরক্ষিত থাকার জন্য এটিই মূল ভিত্তি।
ফুড সেফটি অ্যান্ড স্ট্যান্ডার্ডস অথরিটি অফ ইন্ডিয়ার একটি গবেষণাপত্র অনুসারে, বর্ষাকালে উচ্চ আর্দ্রতার কারণে পরিবেশে অণুজীব, বিশেষ করে ছত্রাক, দ্রুত বংশবৃদ্ধি করতে পারে। এর ফলে ফল, শাক-সবজি এবং পচনশীল খাবার দ্রুত নষ্ট হয়ে যায় এবং আরও সহজে দূষিত হয়।
এছাড়াও দেখা গেছে যে, খাবার সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা, ফ্রিজ পরিষ্কার ও শুকনো রাখা জরুরি, কারণ নোংরা বা স্যাঁতসেঁতে ফ্রিজ খাবারকে সুরক্ষিত রাখার পরিবর্তে ছত্রাক এবং ক্ষতিকারক জীবাণুর বংশবৃদ্ধির ক্ষেত্র হয়ে উঠতে পারে।
বর্ষাকালে কোন খাবারগুলো এড়িয়ে চলবেন
কিছু খাবার বর্ষাকালে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হয়। খাবারগুলো প্রস্তুত বা সংরক্ষণ করার ধরনের ওপর নির্ভর করে সেগুলো ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। কিংবা প্রাকৃতিক উপাদানের সংস্পর্শে আসার কারণেও এমনটা ঘটতে পারে।
খোলা বা অস্বাস্থ্যকরভাবে তৈরি রাস্তার খাবার: এটি অন্যতম প্রধান কারণ, কারণ আর্দ্র বাতাস এবং ধুলোর সংস্পর্শে এলে দূষণের সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যায়।
বাইরে বিক্রি হওয়া কাঁচা সালাদ এবং কাটা ফল: এগুলো অনিরাপদ পানি দিয়ে ধোয়া হতে পারে বা যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি ছাড়া রাখা হতে পারে, যা বিশেষ করে বর্ষাকালে এগুলোকে ঝুঁকিপূর্ণ করে তোলে। সবুজ শাক-সবজি, যদি সঠিকভাবে ধোয়া এবং রান্না করা না হয়, তবে বর্ষাকালে এতে বেশি ময়লা, পোকামাকড় এবং জীবাণু থাকতে পারে। খাওয়ার আগে এগুলো ভালোভাবে ধোয়া এবং রান্না করা অপরিহার্য।
বাসি সামুদ্রিক খাবার: নষ্ট সামুদ্রিক খাবার থেকে মারাত্মক ফুড পয়জনিং হতে পারে, তাই এটি কেবল তখনই খাওয়া উচিত যখন এটি সত্যিই তাজা থাকে এবং সঠিকভাবে রান্না করা হয়।
ঘরের তাপমাত্রায় রাখা বাসি খাবার: বেশ কয়েক ঘণ্টা বাইরে রাখা খাবারে ব্যাকটেরিয়া দ্রুত বংশবৃদ্ধি করে, যা খাওয়ার জন্য অনিরাপদ হয়ে ওঠে।
অপাস্তুরিত দুধ এবং দুগ্ধজাত পণ্য: এগুলো সঠিকভাবে ফোটানো বা নিরাপদে সংরক্ষণ করা না হলে এড়িয়ে চলা উচিত।
খুলনা গেজেট/রুএ

